মঙ্গলবার, ২১ মে, ২০১৩

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও হেফাজতে ইসলাম

রোকেয়া কবীর
মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের একটি রক্তাক্ত অধ্যায়। ৩০ লাখ শহীদ, ১ কোটি উদ্বাস্তু ও ৪ লক্ষাধিক নারী ধর্ষণের শিকার হবার ভিতর দিয়ে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র অর্জন করেছি। বাংলার নারী-পুরুষ মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিল ১৯৭২-এ তার ভিত্তিতেই রচিত হয়েছিল বাংলাদেশের সংবিধান, যে সংবিধান সুস্পষ্টভাবে ধর্ম-গোষ্ঠী-বর্ণ-লিঙ্গ-জন্মস্থান নির্বিশেষে সকল মানুষের সমানাধিকার সংরক্ষণ করেছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অন্যতম স্তম্ভ নারী-পুরুষ সমানাধিকার। স্বাধীন বাংলাদেশে ধর্ম বা অন্য কোনকিছুর নামে এই অধিকার খর্ব করার কারও কোনরকম সুযোগ নেই। কারণ, রাজাকার-আলবদর ও কিছু কুলাঙ্গার বাদে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষ ও আদিবাসী সম্প্রদায়, তথা জনগণের সকল অংশই মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে অশেষ কষ্টের বিনিময়ে এই দেশকে পাকিস্তানী হানাদারবাহিনীর কবলমুক্ত করেছিল। ধর্মের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা পাকিস্তানের ধর্মভিত্তিক রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করেই এই বাংলাদেশের জন্ম।

গোলাম আযমের রায়ের পর নাশকতার জন্য ২০ কোটির তহবিল

ফিরোজ মান্না, জনকণ্ঠ ॥ রাজাকার শিরোমণি গোলাম আযমের রায়ের পর জামায়াত-শিবিরের নাশকতার রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। বোমা, ককটেল ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে হামলা চালাতে ২০ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করেছে তারা। এই টাকা ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় বণ্টনও করা হয়েছে। বিভিন্ন কর্মসূচীতে জেলা ও থানা শহর থেকে জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মীরা ঢাকায় এসেছিল তারা নিজ নিজ এলাকায় চলে গেছে। জামায়াতের সঙ্গে থাকা ধর্মীয় উগ্রপন্থী সংগঠনের কর্মীরাও প্রস্তুত রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থা এ খবর দিয়েছে।

হেফাজতের তান্ডব আর আমার দেশের অপপ্রচার একসূত্রে গাঁথা

সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি ও যুদ্ধাপরাধীর বিচার ঠেকানোই উদ্দেশ্য
স্টাফ রিপোর্টার, জনকণ্ঠ ॥ হেফাজতে ইসলামের তান্ডব আর দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার অপপ্রচার মূলত একসূত্রে গাঁথা। দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করতেই পরিকল্পিতভাবে পবিত্র কাবা শরীফের গিলাফ নিয়ে অপপ্রচার চালাতেও পত্রিকাটি দ্বিধা করেনি। এরপর যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং সর্বশেষ যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গড়ে ওঠা শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের ব্লগারদের ধর্মীয় মূলবোধ নিয়েও অপপ্রচার চালানোর দায় এড়াতে পারে না পত্রিকাটি। পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে মাহমুদুর রহমানের এমন অপপ্রচারের দায় এড়ানোর ন্যূনতম সুযোগ নেই। এমন অপপ্রচারের জের ধরেই গত ৫ মে নাস্তিক ব্লগারদের ফাঁসির দাবিতে হেফাজতীরা রাজধানীতে বেপরোয়া ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।

আদালতে বাবুনগরীর ষড়যন্ত্র ফাঁস ॥ সরকার পতন

০ এসআই শাহজাহান খুনের স্বীকারোক্তি
০ ‘হুজুর (আল্লামা শফী) পত্রিকা পড়েন না, টেলিভিশন দেখেন না, তাঁকে ভুল বুঝিয়েছে একটি অংশ’- ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি
শংকর কুমার দে/গাফফার খান চৌধুরী, জনকণ্ঠ ॥ হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরী মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর মুখ্য হাকিমের আদালতে দেয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীতে দোষ স্বীকার করে বলেছেন, সরকার পতন না হওয়া পর্যন্ত মতিঝিলে অবস্থান নিতে হেফাজতের নেতাদের একটি অংশের পরিকল্পনা ছিল। বিএনপি ও জামায়াতের কয়েক নেতার পরামর্শে এমন পরিকল্পনা করেছিলেন। হেফাজতের শীর্ষ নেতারা মতিঝিলে টানা হেফাজতের অবরোধ কর্মসূচীতে সব ধরনের আর্থিক সুবিধা দিয়েছে ১৮ দলীয় জোট। ১৮ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে মন্ত্রী বানানোর প্রস্তাব দেয়া হয়। মতিঝিল এলাকায় এসআই শাহজাহান হত্যা মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন তিনি।

হেফাজতের ধ্বংসলীলা

মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান
সম্প্রতি হেফাজতে ইসলাম সারা দেশে যে দানবীয় তা-ব চালিয়েছে তার ভিত্তি অনেক গভীরে গ্রোথিত। হেফাজত যে জামাত-শিবির ও বিএনপির বিটিম এটা একটি বালকেরও বুঝতে বাকি নেই। হেফাজতের নেতাকর্মীরা সামাজের বিত্তশালীদের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকে। এদের কিছু আরবি শিক্ষা ছাড়া তেমন জ্ঞানবুদ্ধি আছে এমনটি বলা কষ্টকর। জামাত-শিবির জানে অদূর ভবিষ্যতে তাদের দল নিষিদ্ধ হয়ে যাবে। তাদের সংশোধিত গঠনতন্ত্র বাংলাদেশের সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সৈয়দ কায়সার জেলহাজতে

ঢাকা: যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জাতীয় পার্টির নেতা সাবেক কৃষি প্রতিমন্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সারকে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে এ আদেশ দেন চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের ট্রাইব্যুনাল।

আসামিপক্ষ তার জামিনের আবেদন জানালে ট্রাইব্যুনাল বুধবার এ আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

হেফাজতের পক্ষে মিছিল করা নেতাদের ধমকালেন এরশাদ

ঢাকা: হেফাজতে ইসলামের অবরোধ-সমাবেশের দিনে মিছিল করায় অতি উৎসাহী নেতাদের ধমকালেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

মঙ্গলবার দুপুরে প্রেসিডিয়ামের বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে বলে বৈঠক সূত্র জানিয়েছে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক প্রেসিডিয়াম সদস্য এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, কথা ছিল হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে জাতীয় পার্টি শুধু পানি খাওয়াবে। কিন্তু কেন জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা মিছিল করলেন কড়াভাবে তা মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারের কাছে জানতে চান এরশাদ।